অনেকদিন পর কলিংবেলটা বাজলো।
বেল বাজানোর এই ভঙ্গিটা আমার চেনা।
এভাবে কেবল একজনই বেল বাজায়। সে নীলা।
প্রথমে একবার। তারপর সেই প্রতিধ্বনি শেষ হতে
না হতেই আবার। তারপর আরও একবার।
বেল বাজানোর এই ভঙ্গিটাতে কেমন এক ধরনের
ব্যাকুলতার ছাপ আছে। আমার ভালো লাগে।
দরজা খুলেতেই নীলা কথা বলে উঠলো।
ভালো মন্দ কিছু জিজ্ঞেস না করেই বলতে লাগলো;
একটা মাস গত হলো। একটিবারের জন্যও আপনি
আমায় ডাকেননি। কথা বলেননি। ভালোবাসেনি।
অগোচরে জানতে চাননি কেমন আছি!
কথাগুলো বলে নীলা খানিক দম নিলো।
আমি হাত ধরে তাকে বসালাম।
হাসির ভাষায় বুঝালাম; শান্ত হোন।
নীলা বসলো। শান্ত হলো।
বাইরে তাকিয়ে দেখি;
মেঘহীন নিরেট আকাশ! খাঁখাঁ রোদ্দুর!
আমি নীলাকে ডাকলাম। নীলা সাড়া দিলো।
তারপর বললাম; শেষ কবে বৃষ্টি হয়েছে?
নীলা বললো; মাস দেড়েক আগে।
আমি বললাম; শেষ কবে মেঘ ডেকেছে আকাশে?
নীলা বললো; আনুমানিক সপ্তাহ দুয়েক।
তারপর বললাম; এইযে দু'মাস ধরে বৃষ্টি হয়নি,
দু' সপ্তাহে একবারও মেঘ ডাকেনি আকাশে।
তাহলে কি আপনি বলবেন যে,
আকাশ বৃষ্টি ঝরাতে ভুলে গেছে!
মেঘেরা ভুলে গেছে কান্নার সুর!
নীলা বললো; না তো!
আমি তখন চুপিসারে সবটুকু দূরত্ব
কমিয়ে এনে নীলাকে খানিক ছুঁয়ে দিলাম।
তারপর বললাম; তাহলে আমি কি করে
আপনাকে ভুলে যাব? আকাশের ডেকে যাওয়া
মেঘ, ঝরে যাওয়া বৃষ্টির মতো আপনাকে
ভালোবাসাটাও যে আমার স্বভাবগত!
কবিতা : স্বভাবগত ভালোবাসা
সালমান হাবীব - কবিতায় গল্প বলা মানুষ

দারুণ কবিতা
ReplyDeleteNice poem
ReplyDeletedarun
ReplyDeletePost a Comment