অগাধস্বপ্ন চোখে নিয়ে নিজেকে দেশের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে মহিলা হয়েও জওয়ান পদে নিযুক্ত হয়েছেন মিনতি চৌধুরী। সামনেই লাইন অফ কন্ট্রোলের বর্ডার, প্রতি মূহুর্তেই চোখের পলক পড়তে না পড়তেই কোনো কোনো পাকিস্তানি জওয়ান পরিচয় গোপনে রেখে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছে। প্রহরারত জওয়ানটিকে দেখে বারংবার নিজের দাদার মুুুুখটা মনে পড়ছে তার।দিনটা ছিল ২০.০৮.১৯৯৯, দাদার না আসায় মনে অভিমানের ঘনায়মান মেঘ জমা হচ্ছিল। হঠাৎই গনমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছিল সীমান্তে ১৩ টি জওয়ানের মৃত্যুর কথা। দাদার নিথর দেহটা দেখে হৃৎপিণ্ডটা মোচড় দিয়ে উঠলেও সে মনে মনে বদ্ধপরিকর হয় যে সেও নিজের প্রানটাও দেশরক্ষার কর্মে আহুতি দেবে।
২৩.০৮.২০০৬, মিনতিকে সীমান্তের কাছাকাছি প্রহরায় নিযুক্ত করা হয়।এমতাবস্থায় দুটি লোককে বর্ডারের অন্যদিক থেকে আসতে দেখে মনে সন্দেহই শুধু নয় বিশ্বাস হয় যে ওঁরা পাকিস্তানি। মিনতিকে দেখে পলায়ন করতে চেষ্টা করলে,সে তাদের পায়ে গুলি করে। ঘাড় ঘুরিয়ে স্যারকে রির্পোট করবে বলে ফোনটা করতেই অন্যদিকের লোকটাও তার কোমরের ভিতর থেকে বন্দুকটা বের করে মিনতির পিঠের বাঁদিকে গুলি করে।অসহ্য যন্ত্রণা সাথে নিয়েও তৎক্ষণাৎ সে মনে মনে "জয় হিন্দ" বলে বিপরীতে লোকগুলোর পিঠে গুলি করে।মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সময় মিনতির হাতে রইলো দাদার রাখিটা। মনে হলো যেন দাদার কোলেই মাথা রেখেছে সে আর উনি বলছেন,"আজ গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে আমার "। আস্তে আস্তে শেষ নিঃশ্বাসটাও ত্যাগ করলো সে। মিনতি নামটিও ভারতমাতার দেহের সাথে মিলিয়ে গেলো।এভাবেই প্রতিনিয়ত দেশমাতৃকার রক্ষার্থে বহু দুর্গা বিসর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।।

Post a Comment