রেবা নামে মেয়েটি
নিশিদিন করে
গাভী সেবা।
তার কদর করে
সংসারের কে বা।
রেবা নামে মেয়েটি
নদী জলে মাজে
সংসারের যত এঁটো বাসন।
ব্যস্ত সে অবিরাম কাজে।
তবুও সাঁঝে
গৃহকত্রী অকারণ করে
তাকে অন্যায় শাসন।
রেবা নামে মেয়েটি
মুখ বুজে সব সহ্য করে।
একদিন তাকে নিয়ে গেল বিয়ে করে
তার সুদূরের বরে।
আর কোনদিনই আসে না সে বাবার ঘরে।
বাবা কাঁদে, কাঁদে মা, আর যত ভাই, বোন।
সংসারের আরও যত আপনজন।
রেবা নামে মেয়েটি
বড় সুখী এখন স্বামীর পরিবারে।
সবাই অতি মর্যাদা দেয় তারে।
এখন তো সে কাজ করে
পতির হোলসেল কাপড়ের কারবারে।
নিজেকে সে সাজায়
স্বামীর উপহারে।
বহুমূল্য হীরের হারে।
রেবা নামে মেয়েটি
এখনও আগের মতই রোজ সাঁঝে
পঞ্চমুখী শঙ্খ বাজায়।
শুধু এই অভ্যাসটিই গেছে একই থেকে,
যা ছিল তার
অবিবাহিত জীবনের নিত্য এক কর্ম।
আজও সে মানে সেই সে আগের ধৰ্ম।
রেবা নামে মেয়েটি
আজ সোহাগিনী সিঁথিতে সিঁদুর এঁকে।
এখন আগের সবাই দেখে
সেই সে আগের নির্যাতিতা এখনের একে
বলে হেঁকে ডেকে,
রেবা নামে মেয়েটি
আলাদা সকলের থেকে।
মেঘপিওন - মননশীল সাহিত্যের দর্পন

Post a Comment