রিঙ্গণপুর! বাংলাদেশের একটি সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চল। একটি অবহেলিত গ্রাম। মিয়াজিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টগবগে যুবক আজাদ রেজওয়ান শহরের ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে অলকানন্দা বাড়িতে উঠেছেন। তার বাবার হাতে গড়া বাড়ি। বাবা-মা দুজনই এখন রিঙ্গনপুরের কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে শায়িত। ক্ষমতাসীন দল মহালপন্থী, বিরোধী দল দণিপন্থীকে কোনঠাসা করে রেখেছে। হঠাৎ মহালপন্থির সাথে আবার নতুন করে রাজনীতিতে জড়িয়ে পরে আজাদ। ব্রত রায়ের সাথে সখ্যতা বাড়ে আজাদের।
ব্রত রায় বিরোধীদলীয় ছাত্র নেতা। একসাথে দুজন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে রিঙ্গণপুর উন্নয়নের। আজাদ যে স্কুলে পড়ায় সেখানের মেধাবী ছাত্রী দূর্বা। উঠতি বয়সী মেয়ে। এই বয়সের নানান রকম পাগলামি ভর করে তার মাথায়। প্রেমে পরে স্কুল মাস্টার আজাদের। আজাদ যদিও তার প্রতি গভীর টান অনুভব করে তবুও সবসময় উপেক্ষা করে গেছে। গল্পের মাঝে হঠাৎ আবির্ভাব হয় দুটি শিশু জিনের। ঋজ আর লিলিয়া। আজাদকে প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে দেন দলীয়ভাবে বুলবুল মিয়াজি নিজেই।
ব্রত রায় বিরোধীদলীয় প্রার্থী হওয়া শর্তেও আজাদকে সহযোগিতা করে গেছেন পুরো গল্প জুড়ে। আজাদ রেজওয়ান নির্বাচনে জয়লাভ করেন। সেদিন সন্ধ্যায় আনন্দ মিছিল বের হলে সামনে থেকে কে বা কারা গুলি চালায়। মিছিলে আজাদের পাশে থাকা দুজন সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। অল্পতে বেঁচে যায় আজাদ। বুকের বাম পাশের অনেকটা পাজর ঘেঁষে বুলেট ছুঁয়ে যায়। আজাদ গুরুতর আহত হয়। শহরের হাসপাতালে তাকে প্রায় দেড় বছর থাকতে হয়। এসময়ে আজাদ রেজওয়ান ক্ষমতা তুলে দেন ব্রত রায়ের হাতে। দেড় বছর পর হিমানী জংশনে ট্রেনে করে এসেছিলো আজাদ।
কথা বলেছিল হারুনের সেই পুরনো চায়ের দোকানের নতুন ছেলের সাথে। মরা নদীর তীরে দূর্বা’র লাশ পোড়ানোর সময় আজাদকে দেখেছিলো অনেকেই। কিন্তু! পরদিন থেকে আর আজাদকে দেখা যায়নি রিঙ্গণপুরের কোথাও! কি হয়েছিলো আজাদের? আরো কত শত প্রশ্ন। সবকিছু জানতে আপনাকে অবশ্যই পড়তে হবে বইটি। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ লেখকের পড়া এটি দ্বিতীয় বই। গল্পের প্লট ও চিত্রপট খুবই শক্তিশালী মনে হয়েছে আমার কাছে। রিঙ্গণপুরের বর্ণনায় মুগ্ধ হয়েছি। কল্পনায় রিঙ্গণপুরের প্রকৃতি এঁকেছি।
গল্পের শেষে এসে বাকরুদ্ধ হয়েছি গল্পগুলোর মূল চরিত্র (আজাদ রেজওয়ান, ব্রত রায়, দূর্বা) গুলোর পরিনতি দেখে। লেখক চাইলে অন্য ভাবে সমাপ্তি টানতে পারতেন। হুট করে সবার মৃত্যুতে একটু খারাপ লেগেছে। তবে শেষ পৃষ্টা অবধি আটকে রাখতে পেরেছে লেখক আমাকে। এদিক থেকে লেখক সার্থক। . বানান ভুল তেমন চোখে পড়েনি আমার। তবে ২/৩ জাইগায় বানান ভুল আছে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। ব্যাক্তিগতভাবে প্রচ্ছদটা দারুণ পছন্দ হয়েছে।
ওভারঅল রেটিংঃ ৮/১০
বইঃ রিঙ্গণপুর
লেখকঃ তকিব তৌফিক
প্রকাশনীঃ নালন্দা
প্রচ্ছদঃ আহমেদ করিম
নামলিপিঃ সাহাদাত হোসেন
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২১ মূল্যঃ ৩৫০ টাকা
পড়ুন আয়াতুল কুরসি ↓

বাহ
ReplyDeletePost a Comment