নয়নমালা ও নয়নমালা?
আজ্ঞে দিদিমনি আমায় ডেকেছেন।
নয়নমালা উত্তর দিলো _হ্যাঁ।
কেন ডেকেছেন আমায় দিদিমনি?কিছু বলবেন।
বলছিলাম জুঁই আমার আর তোর দাদাবাবুর রুমটা ভালো ভাবে পরিস্কার করে দিস তো। আজ সন্ধ্যেবেলায় আমার বন্ধু রোহিত আসবে। আচ্ছা দিদিমণি আমি পরিস্কার করে রাখবো। এমন সময় রোহিতের ফোন,
রোহিত হ্যালো নয়ন, তুমি কোথায় এখন?
নয়নমালা বললো_আমি আমার দিদি তৃষার বাড়িতে। তুমি কোথায় এখন?
তৃষা বলছে _"কে রে ফোন করেছে নয়ন?"
নয়ন বললো, "ও আমার কলেজ বন্ধু রোহিত।"
কিছুক্ষণ পরে রোহিতের ফোন_"হ্যাঁ নয়না আমি নেমে পড়েছি বাস থেকে। যাচ্ছি একটু চা খেয়ে। "
চা খেতে খেতে কিছুক্ষণ পর দেখল একজন পাগলকে। দূর থেকে রোহিত ওর ছবি দেখে ধরে ফেলল ও তো ওর কলেজের বন্ধু সুরেশ।
রোহিত সুরেশকে বলেছে,
"সুরেশ তোর একি চেহারার হাল হয়েছে?আর তোর প্রেমিকা রাই কোথায়.?
সুরেশ বলছে "রাই ছেড়ে চলে গেছে,দেখবি আয় রোহিত,?রোহিত বলেছে,
"কি বাজে কথা বলছিস সুরেশ,রাই তোকে কত ভালোবাসে,কেন শুধু শুধু মরতে যাবে বল?
সুরেশ বলছে "মরতে তো চাইনি রাই, ওকে সৌরভের দলবল সহ রেপ করে একটি নির্জন বনে আমার রাই কে ফেলে দিয়েছে রোহিত?
সুরেশ বলছে _"রোহিত আমার মৃত্যু হয় না কেন রে?রাই যে আমায় ডাকে সবসময়।"
রোহিত বলছে_"তোর মুখে বাজে কথা আটকায় না,বল;তোর কিছু হবে না। আমি তোর দেখভাল করবো।"
সুরেশ বলছে_"সৌরভ যে আমার রাই কে কেড়ে নিয়েছে তাকে কী ভগবান শাস্তি দেবে না,বলনারে রোহিত?"
রোহিত বলেছে সুরেশকে দেখিস তোকে যে কাঁদিয়েছে সেই সৌরভকে আমি শাস্তি দেব? তুই যে আমায় বলেছিলি রাইকে দেখতে নিয়ে যাবি?কই নিয়ে চল"
সুরেশ বলল_হ্যাঁ,আমার সাথে আয়।
কিছুক্ষণ পর পচা স্থানে সুরেশ রোহিতকে বলল,
"রোহিত ওই দেখ একটা লাশের গায়ে আগুন জ্বলছে,ওটা আমার রাইয়ের লাশ,আমি রোজ আসি আর এই শহরের দেওয়ালে কাঠকয়লা দিয়ে নাম লিখে রাইয়ের ছবি আঁকি,তারপর তার সেই নীরব চোখে চুম্বন করি।"
রোহিতের চোখ দিয়ে ঠসঠস জল পড়েছে। কিছুদিন পরে রোহিত শুনতে পেল যে
সুরেশ আত্মহত্যা করেছে। তাই বন্ধুর সৎকারের যেন ক্রুটি নাই হয়,সেজন্য রোহিত সুরেশের মৃত দেহটার ওপর আগুন দিল। খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হলো সুরেশের পারলৌকিক কাজকর্ম। তবুও রোহিতের হৃদয়ে আজও সুরেশের সেই কথা বেজে ওঠে
"রাইকে আমি খুব ভালোবাসি। আমি রাইয়ের কাছে যাবো।"
রোহিত এরপর পুলিশের কাছে সৌরভের নামে নালিশ জানালো। পুলিশ তার উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে সৌরভকে গ্রেপ্তার করল। বিচারক সব প্রমানের ভিত্তিতে সৌরভকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলেন। রোহিত নীল আকাশের দিকে অশ্রুভেজা দুই নয়নে বলে উঠল
সুরেশ আমি পেরেছি তোর আর রাইয়ের সাথে যে অমানবিক অন্যায় হয়েছিল তার প্রতিশোধ নিতে।
তুই ভালো থাকিস বন্ধু,যেখানে থাকিস সুখে থাকিস। আজ আমার বুকের আগুনটা কিছুটা হলেও শান্ত হলো। এইবলে সে তার বন্ধু নয়ন কে ফোন করে বলল
সরি নয়ন আমার একটু কাজ ছিল,তাই আসতে একটু দেরী হলো।
নয়ন বলল তোর কি হয়েছে বল তো আমায়?রোহিত তখন সুরেশের ব্যাপার নয়নকে বলল,সেই কথা শোনার পর নয়নও পারেনি তার দুটি চোখের জল থেমে রাখতে,তারপর শেষে রোহিতকে একটাই কথা বলেছিল নয়ন
"ভালোবাসার জন্য কোনো মহৎ কাজ খুবই ভালো রে,ভগবান তোর মঙ্গল করবে।" নয়ন বলল" রোহিত বোস,অনেক কাঠঘর পুড়িয়ে এসেছিস,একটু ফ্যান ছেড়ে বিশ্রাম নে,আমি চা করে আনছি।"
রোহিত আর কিছু না বলে একটু স্মিতহাসি হাসলো এবং একটা কবিতার বই থেকে একটি লাইন বলেছিল যে আমি তারে ভালোবাসি অস্থি মাংস সহ।

Post a Comment